জাতীয়

দেশে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের হার কমেছে

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৯৭৩ জনের দেহে। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত হলেন ২ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৮ জন। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে আরও ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩ হাজার ৯৪১ জনে।রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে করোনা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৫২৪ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯১ জন।

এর একদিন আগে শনিবার (২২ আগস্ট) দেশে আরও ২ হাজার ২৬৫ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে আরও ৪৬ জনের মৃত্যু হয়।

এদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, রোববার (২২ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮ লাখ ৮ হাজার ৬৯৭ জনের এবং আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৮০ হাজার ৫৬৯ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ কোটি ৫৯ লাখ ৬ হাজার ৪৭৯ জন।

করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে রোববার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৫৮ লাখ ৪১ হাজার ৪২৮ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ১৭৪ জনের।

যুক্তরাষ্ট্রের পর করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে ব্রাজিল। আক্রান্ত ও মৃত্যু উভয় বিবেচনায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ৬৯৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ২৭৭ জনের।

বিশ্বে আক্রান্ত বিবেচনায় তৃতীয় স্থানে থাকা ভারত মৃত্যু বিবেচনায় উঠে এসেছে চতুর্থ স্থানে। এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫৬ হাজার ৮৪৬ জনের।

মৃত্যু বিবেচনায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী মেক্সিকো, তবে আক্রান্ত বিবেচনায় দেশটির অবস্থান সাত নম্বরে। মেক্সিকোতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৫৬ হাজার ২১৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬০ হাজার ২৫৪ জনের।

ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্য মৃত্যু বিবেচনায় রয়েছে পঞ্চম স্থানে, তবে আক্রান্তের দিক থেকে দেশটির অবস্থান ১৩তম। এখন পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ২৪ হাজার ৬০১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪১ হাজার ৪২৩ জনের।আক্রান্তের দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে আছে রাশিয়া। দেশটিতে আক্রান্ত ৯ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৭ জন। আর মৃতের সংখ্যা ১৬ হাজার ৩১০ জনের।

সুস্থতার দিক থেকেও প্রথম অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র (৩১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০ জন), দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল (২৬ লাখ ৯ হাজার ৬৩৮ জন) এবং তৃতীয় অবস্থানে আছে ভারত (২২ লাখ ৭৯ হাজার ৯০০ জন)। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হলেও প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ মার্চ। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। কয়েক দফা বাড়িয়ে এ ছুটি ৩০ মে পর্যন্ত করা হয়। ছুটি শেষে করোনার বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই ৩১ মে থেকে দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হয়। তবে বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *