জাতীয় রাজশাহী সারাদেশে

দরিদ্র মুন্নীর মেডিকেলে পড়ার দায়িত্ব নিলেন হুইপ ইকবালুর রহিম

নিজস্ব প্রতিনিধি : পাবনার মেধাবী শিক্ষার্থী মোছা. জান্নাতুম মৌমিতা মুন্নীর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার জন্য সকল কিছুর দায়িত্ব নিলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের হুইপ দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এমপি। চিন্তা মুক্ত এখন মুন্নীর পরিবারের সদস্যরা।
“মেডিকেলে চান্স পেয়েও ভর্তি অনিশ্চিত মুন্নীর” এই শিরোনামে ০৭ এপ্রিল বুধবার বালাদেশের বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এই সংবাদটি খুব দ্রুত সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে ছড়িয়ে পরে। মানবিক ও শিক্ষা বিষয়ক এই সংবাদটি নজরে আসে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের হুইপ দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এমপির। সংবাদটি দেখার সাথে সাথে তিনি মুন্নীর পরিবারের মোবাইল ফোন সংগ্রহ করে তাদের সাথে কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (০৮ এপ্রিল) সকালে মুন্নী এবং তার পরিবারের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের যুক্ত হন হুইপ ইকবালুর। এ সময় মোবাইল ফোনের ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন মুন্নীর বাবা, মা ও চাচা। দীর্ঘ আলাপের পরে হুইপ তাদের আশ্বস্থ্য করেন মুন্নীর মেডিকেল কলেজে ভর্তিসহ সমস্ত বিষয় নিয়ে। এ সময় হুইপ তাদের এই উজ্জল ভবিষৎ মেধাবী শিক্ষার্থীর মেডেকেল কলেজে শিক্ষা গ্রহনের জন্য সমস্ত দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন। ঐ পরিবার আবেগ আপ্লুত হয়ে পরেন। এই মেয়েকে নিয়ে কোন ধরনরে দুশ্চিন্তা না করা জন্য বলেন তিনি। আলাপ চারিতায় হুইপ মুন্নীর বা ও মার কাছ থেকে তার মেয়র দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন। আপনারা শুধু দোয়া করবেন আর ওর কাজ হবে মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করা।

এই বিষয়ে শিক্ষার্থী মুন্নী বলেন, আমার পরিবার যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেটি আমার সিদ্ধান্ত। তবে আমার বা মা আমার সাথে আলাপ করে সব সময় সিন্ধান্ত গ্রহন করেন থাকেন। আমি আমার বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।
বর্তমান বিষয় নিয়ে কথা হয় মুন্নীর বাবা বাকী বিল্লার সাথে তিনি বলেন, এখন আমি চিন্তা মুক্ত। সংবাদ প্রকাশের পরে অনেকেই আমার মেয়র শিক্ষার জন্য এগিয়ে এসেছেন। তবে যেখানে আমার মেয় চান্স পাইছে সেই মালিক হুইপ সাহেব আমাক ফোন দিয়েছিলো। তার সাথে কথা বলিছি আমরা সবাই। তিনি আমার মেয়ের সমস্ত দায়িত্ব নিয়েছেন। আমরা তার অধিনেই ঐ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করার জন্য মনস্থির করেছি।
এই বিষয়ে সবচাইতে বেশি সহযোগিতা করেছেন মুন্নীর সম্পর্কে প্রতিবেশি চাচা মো. জিয়া-উর রহমান। তিনি বলেন, এই সংবাদটি যে এই ভাবে আমাদের মেয়েকে সহযোগিতার জন্য সারা ফেলবে আমরা বুঝে উঠতে পারিনি। গণমাধ্যম কর্মীদের অসখ্য ধন্যবাদ পরিবারের পক্ষ থেকে।

দায়িত্ব গ্রহণ করা বাংলাদেশ সংসদের হুইপ দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম বলেন, মু্িক্তযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত সংসদ সদস্য এম আব্দুল রহিম মেডিকেল কলেজ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আমার প্রয়াত বাবার নামে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাম করন করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানের সাথে আমরা অনেক জড়িত রয়েছি। আমি সংসদের যে ভাতা পাই সেই অর্থ দিয়ে প্রতি বছরি মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাহায্যে ব্যয় করে থাকি। বর্তমানে আমাদের এই মেডিকেল কলেজে ৫জন শিক্ষার্থীকে বিনা খরচে শিক্ষা গ্রহন করছে। ইতমধ্যে ১৪ জন এমবিএস পাস করেছে। সংবাটি দেখার পরে আমি ঐ শিক্ষার্থীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তাদের চিন্তা মুক্ত করেছি। তার মেডিকেল কলেজের শিক্ষা গ্রহনের জন্য যা অর্থ ব্যয় হবে সেটা আমি বহন করবো। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে আর প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় আমরা সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চাই।
প্রসঙ্গত, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস কোর্সের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাক্রমে ৩১১০তম হয়ে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ দিনাজপুরে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন সুজানগরের হতদরিদ্র ভ্যান চালকের মেয়ে মোছা. জান্নাতুম মৌমিতা মুন্নী। ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৬৯.৭৫ নম্বর। মেধার জোরে সব বাধা জয় করে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেলেও আবার সেই আর্থিক দুশ্চিন্তাই তাকে ঘিরে ধরেছে। ভর্তির সুযোগ পেলেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থ। কোথায় পাবেন অর্থ, কে দেবেন অর্থের যোগান এই শঙ্কায় দিন কাটছে দরিদ্র পরিবারের মেয়ে মুন্নীর। মুন্নী পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামের ভ্যান চালক বাকী বিল্লাহ ও মোছা. রওশন আরা খাতুনের বড় মেয়ে। মুন্নী ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী। পোড়াডাঙ্গা হাজী এজেম আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছেন এই শিক্ষার্থী। তার এই মেধাক্রম ও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য এলাকার সবাই বেশ খুশি ও আনন্দিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *