কৃষি

পাটের বাম্বার চাষ ও সুবিধাজনক দামে খুশি সাঁথিয়ার পাটচাষীরা

অনুকুল আবহাওয়া ও সময়মত বৃষ্টিপাতে এ বছর পাবনায় পাটের ভাল ফলন হয়েছে। বিশেষ করে সাঁথিয়ায় উপজেলায় পাটের বাম্পার চাষ হওয়ায় এ অঞ্চলের পাটচাষিরা খুশি।এবার দাম তুলনামূলক সুবিধাজনক হওয়ায় পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের।দেশে প্রায় ২৫টি পাটকল বন্ধ হওয়ায় এবার পাটের দাম নিয়ে শংকিত ছিল কৃষকেরা। তবে তার অবসান হয়েছে ন্যায্য মূল্য পেয়ে।পাট আবাদের সময় প্রথম দিকে আবহাওয়া অনুকুলে না থাকলেও পরবর্তিতে সময়মত বৃষ্টি হওয়ায় পাটের ফলন ভাল হয়েছে বলে অভিমত কৃষি বিভাগের।এ বছর প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাট জাগ দিতেও তেমন বিড়ম্বনা পোহাতে হয়নি চাষীদের।তবে ভাল পানিতে পাট পচানোর জন্য অনেকে দূর-দুরান্ত থেকে পরিবহনে করে পাট নিয়ে এসে ইছামতি নদীতে জাগ দিচ্ছে। এতে অবশ্য তাদের খরচ একটু বেশীই পড়ছে।

সাঁথিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় ৮ হাজার ৬শ ২০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ করা হয়েছে।এবার পাবনা জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশী পাটের আবাদ হয়েছে সাঁথিয়াতে।

গেল বছর প্রতিমণ পাট বিক্রি হয়েছে ১৫ শ থেকে ১৬ টাকা। বিঘা প্রতি ফলন হয়েছিল ৮ থেকে ১১ মণ।সাঁথিয়ার বোয়াইলমারী ও আতাইকুলা হাটে গিয়ে দেখা যায়,এ বছর মান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ২২ শ থেকে ২৩শ টাকা করে।পাটচাষীরা জানায়, প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে ৭ থেকে সর্বোচ্চ ১০মণ।

এক বিঘা জমি চাষ, বীজ, সার, কীটনাশক,পরিচর্যা, পচানি দিতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা নেওয়ার পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে পাট ছিলা ও রোদে শুকিয়ে ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রায় ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়।

বোয়াইলমারী হাটে আসা উপজেলার আফড়া গ্রামের রিপন প্রাং জানান, আমি এ বছর ৩ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করে ভাল ফলন পেয়েছি। দাম ও ভাল পেয়েছি।

সাঁথিয়ার ভবানীপুর গ্রামের মনতাজ আলী, পৌর সদরের দৌলতপুর গ্রামের ছোহরাব শেখ জানান, প্রায় তিন বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছি।মৌসুমের শেষের দিকে বৃষ্টি হওয়াতে তখন শুধু পাট গাছ বড় হয়েছে। আঁশ তেমন মোটা না হওয়ায় ফলন একটু কম হয়েছে। যেখানে ১২ মণ হওয়ার কথা সেখানে ১০মণ হয়েছে।বাজার এবারের মত লাভজনক থাকলে আগামীতে আরও পাট চাষ করবো। এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সঞ্জয় কুমার গোস্বামী জানান, এ বছর পাটের বাম্পার না হলেও ফলন ভাল হয়েছে।তবে গত বছরের থেকে আবাদও যেমন বেশী হয়েছে, তেমনি দাম ও গতবারের চেয়ে মন প্রতি ৭শ থেকে ৮ শ টাকা বেশী।বর্তমান বাজার অব্যাহত থাকলে আগামীতে আরও কৃষক পাট চাষে আগ্রহী হবে বলে তিনি আশাবাদী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *