সারাদেশে

পাবনার চাটমোহরে হাবিব হত্যার সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার না হওয়ায় শঙ্কায় পরিবার

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল নিকিড়ি পাড়া গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব হত্যার আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় গভীর শঙ্কায় পরেছেন পরিবার ও স্বজনেরা। আসামীরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালী হওয়ায় মামলাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার পাঁয়তারা চলছেও বলে অভিযোগ পরিবারের।

গেল ১৪ জুন ২০২০ খ্রি. বিকালে মোবাইলে অনলাইন গেম খেলার মত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবনি কুমার সাহার ছেলে তন্ময় কে মারধর করে একই এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে রাকিব। বিষয়টি জানার জন্য হাবিব সেখানে গেলে রাকিব ও তার সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজন তাকে এলোপাথারী কুপিয়ে যখম করলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সহকারি পুলিশ সুপার (চাটমোহর সার্কেল) সজীব শাহরীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। তারপর সেখানে অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়ন করা হয়। এদিকে হাবিবের পিতা মো. আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ১১জন নামীয় ও অজ্ঞাত ১৮/২০জনকে আসামী করে চাটমোহর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় এজাহারের আসামীরা হলো, ০১. দুলাল হোসেনের ছেলে কাউছার আহম্মেদ কাজল (২৫), ২. আব্দুর রাজ্জাক মাষ্টারের ছেলে রনি আহম্মেদ (২৪), ০৩. রওশন আলীর ছেলে রাসেল আহম্মেদ (২৪), ০৪. জাকির হোসেনের ছেলে রকিবুল হাসান (২১), ০৫. গোলজার হোসেনের ছেলে আসিফ হোসেন (২০), ০৬. বকুল হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ (২১), ০৭. আব্দুল মাজেদের ছেলে সাহেদ আলী (২২), ০৮. সোহেল রানার ছেলে ইমরান হোসেন (২২), ০৯. আব্দুল লতিফের ছেলে শামীম আহম্মেদ (২৫), ১০. সাদ্দাম হোসেনের ছেলে হামজালাল (২০) এবং ১১. কালু খন্দকারের ছেলে নাহিদ খন্দকারসহ অজ্ঞাত আরও ১৮/২০জন।

মামলাটি জটিলতা দেখা দেওয়ায় সিআইডি পাবনা জেলায় হস্তান্তর করা হয়। মামলার পর থেকেই একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় নিহত হাবিবের পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এর প্রতিবাদে ১৭ জুন ঐ এলাকার সাধারণ জনগন, নারী পুরুষ বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ একত্রিত হয়ে বিশাল মানববন্ধন করেন। তারপরও আসামী ধরা ছোঁয়ার বাইরেই রয়ে যায়। তাই ভূক্তভোগী পরিবার নিরুপায় হয়ে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে তাদের বাসায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য নিহত হাবিবুর রহমানের ছোট চাচা রুহুল আমিন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী কাজি আব্দুল খালেক মাষ্টার বলেন, আমরা ১৯৭১ সালে জীবন বাজী রেখে যুদ্ধ করেছি ন্যয় প্রতিষ্ঠা এবং মা মাটি দেশকে রক্ষা করার জন্য। সন্ত্রাসীদের লালন করা জন্য নয়। তাছাড়া নিহতের দাদা তৎকালে ৬ দফা আন্দোলনে চাটমোহরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। যদি কেউ অপরাধ করে তবে তাদের অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।

হান্ডিয়াল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে এম জাকির হোসেন বলেন প্রকাশ্য দিবালোকে শিক্ষার্থী হত্যা অত্যান্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় শুধু হত্যাকারী নয়, পেছন থেকে যারা মদদ দিয়েছে তাদেরকেও সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় আনা দরকার। সেই সাথে কোন নিরাপরাধ মানুষ যাতে এ ঘটনায় স্বীকার না হয় সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। সিআইডি পাবনা জেলা কার্যালয়ের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সবেমাত্র মামলা হাতে পেয়েছি, তদন্তকাজ চলমান রয়েছে। আসামী গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *