রাজশাহী সারাদেশে

পাবনা’র দাশুরিয়ায় দুর্বৃত্তদের নির্যাতনের স্বীকার বিধবা নারীসহ অসহায় পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার : পাবনা’র দাশুরিয়ায় দুর্বৃত্তদের নির্যাতনের স্বীকার বিধবা নারীসহ অসহায় পরিবার। দুর্বৃত্তদের বেপরোয়া কর্মকান্ডে বর্তমানে পরিবারটি অবরুদ্ধ হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

পাবনার ঈশ্বরদী থানা পুলিশের কতিপয় এস আই উৎকোচের বিনিময়ে প্রতিপক্ষ একদল দুর্বৃত্তদের সহায়তা দেওয়ায় দাশুরিয়া সরইকান্দি কারিগর পাড়ার দুঃস্থ বিধবার বসতঘরের সামনে সীমানা প্রচীর দিয়ে গোটা পরিবারকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মিগণ ঘটনাস্থলে আসার সংবাদ পেয়ে ঈশ্বরদী থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক উপস্থিত হলেও তিনি দুর্বৃত্তদের কাজে বাধা না দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি ধামকী দিয়ে দ্রæত স্থান ত্যাগ করেন।

অসহায় পরিবারটি আইনগত সহায়তার জন্য ঈশ্বরদী থানায় অভিযোগ দিতে গেলে, থানা অভিযোগ গ্রহন না করে উল্টো অভিযোগকারী মো. মোক্তার শেখ (৫২) ও তার স্ত্রী লাভলী খাতুন (৪০) গত ৮ এপ্রিল আটক করে জেল হাজতে পাঠায়। মোক্তার শেখ দাশুরিয়া সরইকান্দি কারিগর পাড়ার মৃত তছির উদ্দিন শেখ ছেলে।

জমিজমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৪ নভেম্বর ২০১৭ খ্রি. সে সময়ের কর্মরত পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম এর নির্দেশনা অনুযায়ী তৎকালীণ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) জহুরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি আদালতে চলমান মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে আইন মেনে শান্ত থাকার পরামর্শ দেন।

এখানে উল্লেখ্য ,মলিনা খাতুনের স্বামী আতিয়ার রহমান শেখ কে হায়দার আলীসহ একদল দুর্বৃত্ত এলোপাথারী মারপিট করে। মারপিটের পর আহত আতিয়ার রহমানের নিকট থেকে টাকা না দিয়ে কৌশলে রেজ্রি. কবলামুলে একটি দলিল লিখে নেয়। এরপর অর্থাভাবে সুচিকিৎসা না পেয়ে ধুকে ধুকে আতিয়ার রহমানের মৃত্যু হয়।

পরবর্তীকালে স্থানীয় দাশুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ১৩/০৫/ ২০১৯ খ্রি. জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিধবা মলিনা খাতুন এবং একই এলাকার মো. হিসাব আলীর স্ত্রী মোছা. সুফিয়া খাতুন সাথে একটি আপসনামা চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয় এ দিন হাইদারের বোন সুফিয়া খাতুন জমি রেজস্ট্রি পাওয়ানা ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা মৃত আতিয়ার রহমানের বিধাবা স্ত্রী মলিনা খাতুনকে প্রদান করেন। আতিয়ার রহমানের মৃত্যুর পর তার আপন ভাই মুক্তার হোসেন পাবনা বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২ নং আদালতে জমির উপর পিয়েমশন মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ও/সি ১৩৬/২০২০। এই মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

গত ১৬/০২/২০২১ খ্রি. বিধবা নারী মলিনা খাতুন কে হায়দার আলী মন্ডলসহ একদল দুর্বৃত্ত বাড়ির উপর এসে মারধর করে বাড়ি ভাংচুর করে। এ ঘটনায় মলিনা খাতুন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করলে থানা অফিসার ইনচার্জ অভিযোগটি তদন্তের জন্য এসআই নুরুল হুদার উপর ন্যাস্ত করেন। ঘটনার ২মাস অতিবাহিত হলেও এসআই নুরুলহুদা কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করেন নি। অপর একটি ঘটনায় বিধবা মলিনা খাতুন এবং তার মেয়ে আমেনা খাতুনকে প্রতিপক্ষ মারপিট করলে চিকিৎসার সনদপত্রসহ ঈশ্বরদী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে অভিসার ইনচার্জ অভিযোগটি তদন্তের জন্য থানার এসআই ফিরোজ হোসেনর উপর ন্যাস্ত করেন। এ ঘটনায় তিনিও প্রতিপক্ষের নিকট থেকে উৎকোচ গ্রহন করে এখন পর্যন্ত কোন আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করেন নি। এ সকল ঘটনায় পুলিশের লাই পেয়ে প্রতিপক্ষ আরও বেপরোয়া হয়ে ভুক্তভোগী অসহায় পরিবারটির উপর গত ৭/০৪/২০২১ খ্রি. নির্যাতন চালায় এবং জমি আত্মসাতের পাঁয়তারা করে। প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন মোক্তার হোসেন, তার স্ত্রী লাভলী খাতুন এবং বিধবা মলিনা খাতুন। এ ঘটনায় মলিনা খাতুনের ছেলে মাহফুজ বাদী হয়ে ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কম্পেক্সে আহতদের চিকিৎসার সনদপত্রসহ ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেন। অদ্যাবদি রহস্য জনক কারণে সেই এজাহার ঈশ্বরদী থানায় রেকর্ডভ‚ক্ত করা হয়নি।

বিষয়টি জানার পর মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে গণমাধ্যম এবং মানবাধিকার কর্মিরা প্রতিপক্ষের নিকট জানতে চাইলে তারা এ ব্যাপারে কোন প্রকার কথা বলতে রাজি হয়নি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) ফিরোজ কবির ঘটনার ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে মহামান্য আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আইন শৃংখলা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের আদেশ অমান্য করে হায়দার আলীসহ অন্যন্য দুর্বৃত্তরা বিধবা মলিনা খাতুন ও তার পরিবারকে বাড়ির থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথটি প্রাচীর দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে অসহায় পরিবারটির বাসা থেকে বের হওয়ার কোন পথ নেই। প্রভাবশালী হায়দারসহ দূর্বৃত্তদের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবার পাবনা পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *