রাজশাহী সারাদেশে

পাবনার সাঁথিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ১৫ : আটক ৬

পিপ : পাবনার সাঁথিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকেকেন্দ্র করে দু’গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বাড়ি ঘর ভাংচুর, ফসলের ক্ষেত নষ্ট করে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। আহতদের এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করেছে। গতকাল শনিবার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমড়া ইউনিয়নের ভিটেপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার নাগডেমড়া ইউনিয়নের ভিটেপাড়া গ্রামের প্রামাণিক ও আজম গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এই দুটি গ্রুপ এলাকায় তুচ্ছ কোন কিছু হলেই নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে মরিয়া হয়ে ওঠে। এরই ধারাবহিকতায় সম্প্রতি ডিসের লাইনের টাকা নেয়াকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী সরিষা গ্রামের ডিস ব্যবসায়ী মোশারফের সাথে বিবাদ লাগে প্রামাণিক গ্রুপের লোকজনের সাথে। এক পর্যায়ে আজম গ্রুপের লোক তাতে বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয় আজম গ্রুপের লোকজনের উপর। এ ঘটনার মিমাংমার জন্য আজম গ্রুপের লোকজন চেষ্টা করলেও প্রামাণিক গ্রুপের লোকজন মানতে নারাজ। এরই জের ধরে শনিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে উভয় গ্রুপের সংঘর্ষ বেধে যায়। এক টানা প্রায় ৩টা পর্যন্ত চলে। এসময় উভয় গ্রুপের প্রায় ৭/৮ শত গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ফালা ,লাঠি, ঢাল, তলোয়ার, হেলমেট পরিহিত দেশীয় অস্ত্রেসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের উপর হামলা করে তারা। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫জন আহত হয়। উভয়পক্ষকে নিবৃত করতে সাঁথিয়া থানা পুলিশ প্রথমে হিমশিম খেলেও পরে বেড়া সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে পার্শ্ববর্তী বেড়া থানার পুলিশ ফোর্স নিয়ে একযোগে আ্যাকশানে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৬জনকে আটক করে পুলিশ। এ সময় নাগডেমড়া ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদকেও পুলিশের সাথে উভয়পক্ষকে নিবৃত করতে দেখা যায়।
ভিটেপাড়া গ্রামের আ.লীগ নেতা আব্দুর আলীম মন্ডল ও মনসুর বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, প্রামাণিক গ্রুপের লোকজন হামলা করে তাদের প্রায় ৬ বিঘা জমির রশুন, করোলাসহ বিভিন্ন ফসলাদি নষ্ট করেছে ও তুলে নিয়ে গেছে।
মজিবর ও মনিরুল অভিযোগ করে বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, তাদের বাড়িঘর ভাংচুর হয় এবং টিভিসহ টাকা পয়সা নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
সাঁথিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আসিফ মোহামম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়োন্ত্রনে আনে। এ ঘটনায় ৬জনকে আটক করা হয়েছে। আরও জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছ। এলাকায় পুলিশ মোতয়েন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *