রাজশাহী সারাদেশে

পাবনার সাঁথিয়া আবর্জনা ফেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র পুকুর দুষিত করার অভিযোগ

মুক্ত চেতনা ডেস্ক : সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র সবুজ চত্বরে ডুকলেই এক সময় প্রাণ জুড়িয়ে যেত, একদন্ড পায়চারি ও সবুজের ঘ্রাণ নিতে প্রতিদিন শত শত মানুষ পুকুর পাড়ে ঘুরতে যেত, নিত প্রাণের নি:শ্বাস ভরে যেত মনপ্রাণ সেখানে আজ দুষিত হওয়ার কারণে মানুষ যাওয়া তো দুরের কথা পুকুর এখন রোগীসহ স্থানীয়দের ভোগান্তীর কেন্দ্রবিন্দতে পরিনত হয়েছে।


সোমবার সরজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সাঁথিয়া স্বাস্থ কমপ্লেক্স’র পুকুরে নেমে সেই ছোটদের ঝাঁপ দেওয়া আর গোসল করা সময়ের পরিবর্তে হারিয়ে গেছে। সেই পুকুর আবর্জনাসহ বাথরুমের মল ফেলে দুষিত করা হচ্ছে। যার কারণে বিভিন্ন সময় ছেড়ে দেওয়া মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগত রোগী ও তাদের স্বজনরা দুষিত পুকুরের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
পৌর এলাকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র স্টাফ নার্স আকলিমা বেগম ও তার স্বামী ব্যবসায়ী আব্দুস সালামের স্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন ন্যাক্কার জনক অভিযোগ উঠেছে।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিশাল একটি পুকুর, সেই পুকুর সরকারিভাবে লিজ দেওয়া হয় স্থানীয় এক হালদারের কাছে, সে একজন মাছ ব্যবসায়ী, এটা করেই তার জীবিকা নির্বাহ হয়। সে জানায় মাছ চাষ করার জন্য পুকুর লিজ নিয়েছি। নিয়মিত মাছ চাষ করা হলেও পুকুর দুষিত হওয়ার কারণে কেই এই পুকুরের মাছ কেউ কিনতে চায় না। বাজারে নিয়ে গেলে নাকসিটকে ফিরে যায় বাজারীরা। যার কারণে পুকুর লিজ নিয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। বারবার মাছের ব্যবসায় লোকশান গুনতে হয়েছে।

পুকুরের লিজ গ্রহীতা গদা হালদার বলেন, পুকুরটি লিজ নেওয়ার পর থেকেই এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোন প্রকার নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে পুকুরে নিয়মিত বাথরুমের মল ও বিভিন্ন ধরণের আবর্জনা ফেলে পুকুরের মাছ আবাদ করা হুমকির মধ্যে ফেলে দিছে। এই নার্স নিজের ক্ষমতার জোরে হাসপাতালের প্রাচীর ঘেষে, হাসপাতালের জায়গা দখল করে নিজের বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে যা বিধিবহির্র্ভূত। বেশ কয়েকবার নিশেষ করা হলেও তিনি কোন কথা শোনেননি। বরং বিভিন্ন প্রভাবশালীদের মাধ্যমে আমাকে ভয়ভৃতি দেখাচ্ছে। বিভিন্ন মহলে এর প্রতিকার চেয়েও পাইনি।
নার্সের স্বামী আব্দুস সালাম বলেন, পুকুরে মল ও আবর্জনা ফেলতে আমাকে কেউ নিষেধ করেনি, যদি কেউ মানা করে তাহলে ওখানে আর ময়লা আবর্জনা ফেলব না। পুকুরে পানি দেওয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সবাই জানে, তারা যদি পানি গড়াতে না দেয় তাহলে দেবনা।
সাথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস. এম জামাল আহমেদ বলেন, আমাকে কেউ এ বিষয়ে মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ দেয়নি। যদি কেউ এ বিষয়ে অভিযোগ দেয় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুকুরে বাহিরের পানি ও মল আবর্জনা ফেলার অধিকার কারো নেই। যদি কেউ এই কাজ করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *