রাজশাহী সারাদেশে

পাবনায় আদালতের আদেশ অমান্য করে গৃহহীনদের ঘর নির্মান , দিশেহারা অসহায় পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি : পবনায় আদালতের আদেশ অমান্য করে ব্যাক্তিমালিকানা বসত ভিটার জমিতে গৃহহীনদের জন্য ঘরনির্মানের অভিযোগ পাওয়াগেছে। দেশব্যাপী গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকার সেমিপাকা ঘর নির্মান করেদিচ্ছে। এরই অংশ হিসাবে পাবনা সদর উপজজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের ভাড়ারা গ্রামের মধ্যজামুয়া প্রামানিক পাড়ায় বসবাসকৃত আরেক দরিদ্র পরিবারের জায়গা খাসখতিয়ান দেখিয়ে ঘর নির্মাণ করছে প্রশাসন। অথচ এই জায়গা নিয়ে রের্কড সংশোধনীর মামলা থাকায় বিজ্ঞ আদালত বাদি-বিবাদির উপর স্তিতাদেশ বজায়ে রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু সেই আদেশ অমান্য করে এখনো চলছে গৃহনির্মানের কাজ।
ঘটনা স্থলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ষাটউর্ধ এক বিধবানারী মাটি চাপরিয়ে কান্না করছে। প্রয়াত স্বামীর স্মৃতি বিজরিত জায়গা খাসখতিয়ান দেখিয়ে জেলা প্রশাসন নির্মান করছে গৃহহীনদের জন্য বসত বাড়ি। নির্মানাধীন জায়গাতে দীর্ঘদিনের পুরানো শতাধীক বিভিন্ন ধরনরে গাছ কেটে ফেলো হয়েছে। ভাড়ারা গ্রামের মসজিদ সংলগ্ন মধ্যজামুয়া প্রামানিক পাড়ায় প্রয়াত কৃষক গোলাম মোর্শেদের পৈত্রিক জমি দখল নিয়েছে প্রশাসন। চলতি বছরের প্রথম দিকে অনুষ্ঠানিক ভাবে এই ঘড় নির্মান কাজের উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু সারা দেশে সরকারের খাস জমিতে ঘর নির্মান হলেও ভাড়ারা গ্রামে সেটি হয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মোছা নাজমা খাতুন কান্না জরিত কন্ঠে বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষের বসত ভিটার জায়গা এটা। এখানে আমার শশুড় কলম প্রামানকি ও তার বাবা জালেম উদ্দিন প্রামানিক বসবাস করেছে। আর এখন প্রশাসন আসে কচ্ছে এই জায়গা আমারে না। আমরা দরিদ্র অসহায় মানুষ এখন ছেলে সন্তান নিয় কোথায় যাবো।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই বসতি জমির ডিএস তাদের নামে (এস এ) ও (আর এস) খতিয়ান সংশোধনী মামলা চলমান পাবনার সিনিয়ার সরকারী জজ আদালতে। কিন্তু বিচারাধীন জায়গা খাস দেখিয়ে জোর পূর্বক দখল নিয়ে জেলা প্রশাসন ওই স্থানে নির্মান করছে ১৫টি সেমিপাকা ঘর নির্মান করছে। এই বিষয়ে ভুক্তভোগীরা নিন্ম আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করলে আদালত উভয় পক্ষকে স্থগীতাদেশ প্রদান করেন। কিন্তু সেই আদেশ বাতিল করিয়ে ঘর নির্মানের কাজ করতে থাকে প্রশাসন। ভুক্তভোগীরা পরবর্তীতে উচ্চতর আদালতের শরনোপ্ন হলে আদালত নিন্ম আদালতের আদেশ বহাল রেখে চলমান কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। কিন্তু কোন আইনী আদেশ কাজে আসছে এখানে। আইনের তুয়াক্কা না করে জোরপূর্বক ঘর নির্মানের কাজ চলছে।
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য কাঠ মিস্ত্রি মোঃ গোলাম মোস্তফা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমরা আজ সর্বশান্ত হয়ে গেছি। নিজেরদের জায়গাতে প্রশাসন জোর পূর্বক অন্যদের জন্য ঘর নির্মান করছে। এই জায়গা ছাড়া আমাদের আর কোন জায়গা নেই। আমরা চার ভাই দুইবোন। অর্থের অভাবে বসত বাড়ি করতে পারিনি। কোন মত একটি ঘর তুলে বসবাস করতাল। আর আজ আমাদেরকে সর্বশান্ত করেদিয়েছে প্রশাসন। আমরা ন্যায়ের জন্য বিজ্ঞ অদালতের কাছে গেছি। আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। তুব থামেনি নির্মান কাজ। উল্টো কাজে বাধা প্রদান ও চুরির মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাদের জেল খাটিয়েছে প্রশান। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।
ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ঠ ভাড়ারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খান বলেন, এই জমি আমরা দেইনি। সদর ভুমি অফিস সংশ্লিষ্ঠ ইউনিয়নের ভূমি অফিসের মাধ্যমে সরকারের খাস খতিয়ানের জায়গা তালিকা নিয়ে সেখানে ঘর নির্মান করছে। এই জায়গার ডিএস তাদের নামে থাকলেও এস এ ও অর এস খাস খতিয়ান হয়েগেছে। এই জমির মালিক সরকার। জমির বিষয়ে যদি আদালতের কোন বিষয় থাকে তবে সেটি সদর এসিল্যান্ড, ইউএনও ও জেলা প্রশাসক জানেন। এই ঘর নির্মানের কাজের বিষয়ে আমাদের কোন হাত নেই।
বাদী পক্ষের বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান কামাল বলেন, আমার মক্কেল তার আইগত অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য উচ্চতর আদালতে আসে। আমার মক্কেলের সকল নথিপত্র বিজ্ঞ আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হয়। বিজ্ঞ আদালত পাবনা সদর সিনিয়ার সহকারী জজ আদালতের আদেশ বহাল রেখে দুই মাসের জন্য সমস্যা সমাধানের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু এই আদেশ অমান্য করে জেলা প্রশাসনসহ যারা ওই স্থানে নির্মান কাজ করছেন তারা উচ্চতর আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন।

ঘটনার বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক কবির মাহামুদ বলেন, তিনি প্রথমেই আদালতের বিষয়ে কোন কথা বলা সমিচিন নয় বলে বলেন, আমরা কোন আইন অমান্য করিনি। এই জমির মালিক সরকার। সরকারের জমিতে সরকারের উপহার গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মান করা হচ্ছে। এই ঘটনার বিষয়ে বাদী পক্ষ বিজ্ঞ আদালতের কাছে গেছেন। আদালত আমাদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন। বিষয়টি জানার পরে কাগজপত্র দেখার পরে সেটি খারিজ করে দিয়েছেন। আমরা তার পরে সেখানে কাজ করছি। যেহেতু বাদী পক্ষ ডিএস অনুযায়ী ওই জায়গার মালিক দাবি করছেন। কিন্তু এর পরে দুটি এসএ ও আরএস খতিয়ানে তাদের নাম নেই। সুতরাং সেটি খাস ১নং খতিয়ানে চলেগেছে। তবু আমার দোয়ার খোলা আছে সবার জন্য। কারো যদি কথা থাকে তবে আলোচনা করে সমাধান করা যেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর একটি ভালো উদ্যোগ প্রশ্নবৃদ্ধ হতে চলেছে এই ঘর নির্মনের মধ্যদিয়ে। প্রশাসন আর আঞ্চলিক ক্ষমতাশীন জনপ্রতিনিধিদের কাছে অসহায় এই দরিদ্র পরিবারের সদ্যরা। পূর্বপূরুষের কাছ থেকে প্রাপ্ত এই বসত ভিটার জমি তাদের একমাত্র সম্বল। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের এই জমির খতিয়ান সংশোধী বিষয়ে একটি মামলা রয়েছে স্থানীয় আদালতে। নিন্ম ও উচ্চতর আদালত বিষটি নিস্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নিদের্শ দিয়েছেন। তবুও থামেনী অবৈধ ভাবে ঘর নির্মানের কাজ। বর্তমানে বসতভিটা ও গৃহহারা জমির মালিকেরা। এই বসত ভিটার জমি ছাড়া আর কোন জায়গা নেই তাদের। একদিকে দরিদ্র একটি পরিবারকে নিজের জায়গা থেকে উচ্ছেদ অপরদিকে গৃহহীনদের জন্য চলছে ঘর নির্মানের কাজ। সমস্যা সমাধানের জন্য সকলের দারেদারে ঘুরে ফিরছে অসহায় পরিবারের সদস্যরা। আশায় বুক বেধে রেখেছে হয়তো ফিরে পাবে বসত ভিটা। এই জায়গার বিষয়ে প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগীদের মামলা দেয়ারও ঘটনা ঘোটেছে এখানে। তাই বিষটি প্রশাসনসহ প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *