রাজশাহী সারাদেশে

পাবনায় ওয়ার্ড আ.লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টায় থানায় মামলা দায়ের

নিজস্ব প্রতিনিধি : পাবনায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সদর পৌর এলাকার হিমায়েতপুর ১৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মো. মাহামুদুল হাসান হিরক শেখ (৩৮) কে ধারালো অস্ত্রদিয়ে কুপিয়ে গুরুত্ব আহত করেছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। গত ৩০ মার্চ মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে পাবনা সদর উপজেলার বুদেরহাট সুরমা ক্লিনিকের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিত ভাবে আ.লীগ নেতা হিরক শেখের উপর হামলা চালায়। হামলার সময় সন্ত্রাসীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্রদিয়ে হিরকের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এই হামলার পরে স্থানীয়রা গুরুত্ব আহত হিরককে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। বর্তমানে তিনি পাবনা জেনালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। তার অবস্থা এখনো আশঙ্কা জনক।
এই ঘটনার পরে গুরুত্বর আহত হিরকের ছোট ভাই মো. সুমন শেখ নিজে বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
হামলাকারীদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য আসামীরা হলেন, বুদেরহাট এলাকার আহম্মেদ শেখের ছেলে বর্তমানে নবনির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শাহীন শেখসহ তার দুই ভাই মো. শাকিল শেখ ও মো. মামুন শেখ। সহযোগি অন্যরা হলেন নাছের শেখের ছেলে এই ঘটনার প্রধান আসামীর পিতা আহম্মেদ শেখ, একই এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মো. সোহলে, আসাব শেখের ছেলে মো. বিপুল ও মামুনসহ আরো বেশ কিছু সন্ত্রাসী এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।

এই হামলার ঘটনার মামলার বাদী হিরকের ছোট ভাই মো. সুমন শেখ বলেন, মামলার প্রধান আসামী বর্তমানে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের জন্য আমার ভাইকে মারছে। তারা পূর্ব থেকেই এলাকায় সন্ত্রাসী কার্মকান্ড, মাদকের ব্যবসাসহ সাধারন মানুষের জায়গা দখলের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। আমরা আওয়ামীলীগ পরিবারের সদস্য। তাদের অপকর্মের অন্যায় ও প্রতিবাদ করার জন্য তারা পরিকল্পিত ভাবে এই ঘটনা ঘোটিয়েছে। আমরা এই নৃশংস হামলার সঠিক বিচার চাই।
ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বর আহত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মো. মাহামুদুল হাসান হিরক বলেন, আমরা এলাকার সাধারণ মানুষ ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে পরেছি এই সকল সন্ত্রাসীদের কাছে। এই অঞ্চলে এমন কোন অপকর্ম নেই তারা করেনা। চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে মানুষ হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এই সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ন্ত্রন করে। তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য আমার উপর হামলা করেছে তারা। দীর্ঘদিন ধরে এই সন্ত্রাসীরা এলাকায় মানসিক হাসপাতালে অবৈধভাবে রোগীর ভর্তি, জায়গা দখল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করে আসছে তারা। তাদের ভয়ে অনেকইে মুখ খুলে কথা বরতে সাহস পায়না।
তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার উপর হামলার সময় আমি নিজেও এই হামলার শিকার হয়েছি। একুশে আগষ্ট হামলার শিকার হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আমার নাম যানেন। আমি ছোট বেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দল করে আসছি। বিগত দিনে বিএনপির সময় স্থানীয় বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমার উপর হামলা করে আমার একটি হাত ভেঙ্গে আমাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। আর এই সময়ে নব্য আওয়ামীলীগে যোগ দেয়া বিএনপির সেই সকল সদস্যরা আমার উপর হামলা করেছে। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই প্রশাসনের কাছে। নব্য বিএনপির কাছে আর যাতে কোন ত্যাগী নেতাকর্মীদের অন্যায় অত্যাচার আর নির্মমতার শিকার হতে না হয়।
মামলার বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাসিম আহম্মেদ বলেন, এই ঘটনায় উভয় পক্ষ থানাতে অভিযোগ দিয়েছিলো। প্রাথমিক তদন্ত করে দুটি অভিযোগি গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (০৬’এপ্রিল) রাতে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই ঝামেলার সূত্রপাত। একজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আসামীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *