রাজশাহী সারাদেশে

পাবনায় করোনা সংক্রামণ বৃদ্ধি, হাসপাতালে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত, জনসচেতনায় মাঠে পুলিশের প্রচারাভিযান

নিজস্ব প্রতিনিধি : পাবনায় হঠাৎ করে করোনা সংক্রমণ হার বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসে সারা দেশেরন্যায় পাবনা জেলাতেও করেনা পরীক্ষায় পজেটিভির সংখ্যা দিগুন হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এদিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোবকাবেলায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে মাঠে কাজ শুরু করেছে জেলা পুলিশ।
ইতমধ্যে প্রচার অভিযানের অংশ হিসাবে শহর ও বাস টারমিনাল এলাকায় পরিবহনের সাথে সপৃক্ত মালিক, শ্রমিক ও চালকদের নিয়ে বাস টারমিলান এলাকায় সমাবেশ করেন। সমাবেশ চলাকালে বিনামূল্যে যাত্রিসহ পরিবহন সংশ্লিষ্ঠদের মাঝে মাক্স বিতরন করা হয়। আগামী দিনে গণপরিবহন সংশ্লিষ্ঠদেরসহ যানবহনে চলাচলকৃত সকলকে মাক্স ব্যবহারের অনুরোধ করা হয়। পরবর্তীতে মাক্স ব্যবহার না করলে আইন প্রয়োগ করা হবে বলে সকলে সতর্ক করেন।
প্রচার অভিযান বিষয়ে পুলিশসুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, করোনা পরিস্থিতি আবারো ভয়াবহ রুাপ ধারন করছে। পুলিশ হেডকুয়াটার ও আইজিপি স্যারের নির্দেশে সারা বাংলাদেশের ন্যায় পাবনাতেও আমরা জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে মাঠে কাজ করছি। আমরা শহরের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ জনবহন এলাকা ও স্থানকে বেছে নিয়েছি। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা সাধারন মানুষকে বিনামূল্যে মাক্স দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছি। প্রায় দুই লক্ষ মানুষের মাঝে আমাদের এই মাক্স বিতরণ করা হবে। যারা পরবর্তীতে মাক্স ব্যবহার করবেনা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কিন্তু ভিন্নচিত্র পাবনা সদর হাসপাতালে। হাসপাতালের প্রবেশ মুখে ইমারজেন্সি বিভাগসহ দায়িত্বশীল স্বাস্থ্যকর্মীদের মুখে মাক্স পাওয়া যায়নি। এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসাগ্রহনকারী রোগী ও তার স্বজনের মধ্যেও মাক্স ব্যাহারের প্রবনতা খুব কম পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনা মোকাবেলায় আবারো প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে। মাক্স ব্যবহারসহ সামনের দিনে করোনা মোকাবেলায়র জন্য হাসপাতালের একশত শয্যার সেন্ট্রাল অক্সিজেন কক্ষের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে বলে জানান হাসপাতাল সংশ্লিঠরা।
পাবনা ২৫০ শয্যার পাবনা জেনালে হাসপাতালের দায়িত্বরত সরহকারী পরিচালক ডাঃ মোহম্মদ আয়ুব হোসেন বলেন, হঠাৎ করে জেলা সদরে করোনা সংক্রমন বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে আমাদের হাসপাতালের করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় করোনা রোগীদের জন্য আলাদা একশো শয্যার কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছিলো। তবে সেবার পরিবশে তেমন ভালো ছিলো না। এখন আমরা সেন্ট্রাল অক্সিজেন সমৃদ্ধ একটি নতুন কক্ষ প্রস্তুত করছি। আশা করছি এবারের করোনা মোকাবেলায় আমরা ভালো ভাবে সেবা দিতে পারবো। আর সচেতনাবৃদ্ধির জন্য হাসপাতালে সকলকে নির্দেশনা দেয়া আছে। আবারো সকলকে নিয়ে সভাকরে কঠোর ভাবে নির্দেশেনা দেয়া হবে। মাক্স ছাড়া কোন ব্যবক্তি হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারবে না।
পাবনায় চলতি মাসে প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমনের হার বৃদ্ধি পেয়ে ৪.৩৮%। যা বিগত দু্ি মাসের তুলতায় দিগুন। এপ্রির মাসের শেষ থেকে মার্চ মাসের এখন পর্যন্ত পাবনা জেলাতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৭৪৮ জন। সুস্থ্য হয়েছে ১৪৮৪ জন। এখন পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩৯,৯২৪ জনের। সুস্থ্যতার হার ৮৪.৯০%।
বর্তমানে পাবনা সদর হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছে ৩ জন। এখন পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্ত হয়ে পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৩ জন। এখন পর্যন্ত পাবনা সদরে করোনায় আক্রন্ত হয়েছে ১৩৪জন। এরমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। আর সব মিলিয়ে জেলাতে মত্যুর সংখ্যা ১১ জন। তবে আগামীদিন গুলিতে স্বাস্থ্য উপকরনসহ মাক্স ব্যবহার না করলে করোনা মোকাবেলা বেশ বেগ পেতে হবে জানিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন সিভিল সার্জন ডাঃ মোহম্মদ আবদুল কাদের তিনি বলেন, জেলা শহর পাবনাতে চলতি মাসের এই দুই সপ্তাহে করোনা সংক্রমন বৃদ্ধি পেয়ছে। যা আগের দিনের চাইতে অনেক বেশি। তবে মৃত্যুর সংখ্যা আমাদের অনেক কম। প্রতিদিন পরীক্ষা করা হচ্ছে। সামনের দিনের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। সকলে মিলে এক সাথে কাজ করলে এই পরিস্থিত মোকাবলো করা সম্ভব হবে। তবে ভয় না পেয়ে সকলকে সচেতনতার সহিত পূর্বেরমত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *