রাজশাহী সারাদেশে

পাবনায় তারাপাশা খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ ; নোটিশ ছাড়াই ভুমিহীনদের উচ্ছেদ; বর্ষায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় কৃষক

নিজস্ব প্রতিনিধি : পাবনা আটঘোরিয়া উপজেলার মধ্যদিয়ে বয়ে চলা তারপাশা খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে উদ্বোধন হওয়া এই খাল খননের কাজ কোন রকমে করে দ্রুত শেষ করার জন্য চেষ্টা করছেন স্থানীয় সৌরভ ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড এর সংশ্লিষ্টরা। সোয়া ১০ কিঃ মিঃ দৈর্ঘ্যের এই খাল খনন কাজ প্রায় শেষ দিকে। কিন্তু এখনো বাকী রয়েছে কালভার্ট ক্যানেল বসানোসহ খালের দুই পারে রাস্তা ও বৃক্ষরোপণের কাজ। এদিকে কাজের ধীরগতি আর নামমাত্র খনন পক্রিয়ার জন্য চিন্তার মধ্যে পরেছেন এই অঞ্চলের সাধারণ কৃষকেরা। খাল পারের উচ্ছেদ কার্যক্রমে আইনগত জটিলতার কারণে বর্তমানে খনন কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

৬৪ জেলার অভ্যন্তরে ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃ খনন কার্যক্রম হাতে নিয়ে সরকার। এরই অংশ হিসাবে পাবনায় তারাপাশা খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে প্রায় দুই মাস আগে। খননের কাজ পেয়েছেন সৌরভ ট্রেডার্স নামের প্রভাবশালী স্থানীয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাই কোন রকমে দায়সারা কাজ করে উঠে আসতে চাইছেন তারা। খালের দুই পারের উচ্ছেদ কার্যক্রম জটিলতার কারনে বর্তমানে খনন কাজ বন্ধ রয়েছে। আর এই বর্ষা মৌসুমে আবাদী জমীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি আশঙ্কা করছেন সাধারণ কৃষকেরা। কোন মতে খাল থেকে মাটি তুলে দুই পাশে রেখে দেয়া হয়েছে। এখনো শুরু হয়নি এই দুই পারের চলাচলের রাস্তার কাজ। কৃষকদের ধারণা আসছে বর্ষা মৌসুমে এই মাঠে পানি জমে থাকবে। খালের দুই পার ঢালু না করার জন্য বৃষ্টি হলেই পারে উঠানো মাটি আবার খালে গিয়ে ভড়াট হয়ে যাবে। বৃহত্তর এই অঞ্চলের কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকারি ভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড এর ততা¡বধানে খনন হচ্ছে এই খাল। কিন্তু প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা ব্যায়ের এই কাজ সঠিক ভাবে করা হচ্ছেনা। আবার দীর্ঘদিন ধরে খালের দুই ধারে বসবাসকৃত ভূমিহীন মানুষকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই। তাই কাজের অগ্রগতি দরপত্র অনুসারে কাজ হচ্ছে কিনা এই সকল বিষয়ে দেখার জন্য জেলা প্রশাসকসহ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, “উপজেলা চেয়ারম্যানের ছাওয়াল কাম পায়ছে। তার বিরুদ্ধে কতা কলি আমাদের সমস্যা করবিনি। আমাদের আসা যাওয়ার জন্নি রাস্তার উপর মাটি দিবের কলেম তা দিলেনা। এহনো কোন কিছুই অয়নাই খালের দুইপার দিয়ে রাস্তা হরবি গাছ লাগাবি সেটা কবে অবি আমরা এহনো জানবের পারলেম না”।

মাঠের দুইপারের স্থানীয় একাধিক কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, আসছে বর্ষায় সেখানে আবারো এই মাটি খালে গিয়ে ভরে যাবে। এই কাজ কৃষকের কোন কাজে আসবে না। এই বর্ষার সময়ে আমাদের মাঠে জলাবন্ধতা সৃষ্ঠি হবে বলে জানান কৃষক। আর খালের দুই ধারে ব্রিজ কালভার্ট দিলে পানি বের হয়ে যেতো। সেসব নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে কাজ চলছে খাল খননের।

খাল খননে উচ্ছেদ হওয়া ভুমিহীন সাধারন মানুষ অভিযোগ করে বলেন, বিনা নোটিশে আমাদের এখান থেকে উচ্ছেদ করছে এই ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। যেখানে সরকার মুজিব বর্ষে গৃহহীনদের জন্য ঘড় উপহার দিচ্ছে, সেখানে আমাদের উচ্ছেদ করছে এরা। ফসল নষ্ট করে মাটি ফেলা হচ্ছে ফসলের মাঠে। কোন প্রকারের ক্ষতিপূরণ বা আবাসনের ব্যবস্থা না করে এই সকল দরিদ্র ভুমিহীনদের উচ্ছেদের কারণে আবাসন সমস্যার মধ্যে পরেছে প্রায় শতাধিক গৃহহীন মানুষ।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার জাহিদুর রহমান মিঠু বলেন, এই খাল খনন কাজে কোন ধরনের অনিয়ম করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী কাজের অগ্রগতী বেশ ভালো। কৃষকের সুভিধার জন্য বিভিন্ন স্থানে খালের মুখ খুলে রাখা হচ্ছে। আর মাঠের পানি বের করে দেয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে পাইপ বসানোর কাজ চলছে। আর এই কাজ সম্পর্ন না হলে বিষটি সঠিক ভাবে বোঝা যাবে না। কাজের বিষয়ে দেখভাল করছেন পানিউন্নয়ন বোর্ড। কাজ শেষ হলে মানুষের উপকারে লাগবে বলে জানান তিনি।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল আলম চৌধুরী কাজের বিষয়ে বলেন, এই খালটির দৌর্ঘ প্রায় সোয়া ১০ কিঃ মিঃ। আমরা সব সময় কাজের অগ্রগতী কাজের মান নিয়ে খোঁজ রাখছি। একটি উন্নয়ন মূলক কাজ করতে গেলে সাধারণ মানুষের একটু ক্ষতি হয় এটা মেনে নিয়েই আমাদের কাজ করতে হয়। আর খালের দুই পারের অবৈধ বসতিদের কাজের পূর্বেই উঠে যেতে বলা হয়েছে। খতি গ্রস্থ্যদের তালিকা করে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে। সরকারি ভাবে বরাদ্দের ব্যবস্থা হলে তাদের পুনঃবাস করা হবে বলে জানান তিনি।

পাবনা সদর উপজেলার খুব কাছেই বৃহত্তর কৃষি সমৃদ্ধ আটঘোড়িয়া ও দেবত্তর অঞ্চল। এই অঞ্চলের মাটি কৃষি ফসলের জন্য বেশ সমৃদ্ধ। সদর এবং আটঘড়িয়া উপজেলার এই অঞ্চলের দুইপাশের আবাদি কৃষি ফসলের শুস্ক মৌসুমে সেচ কার্যক্রম আর বর্ষায় জলাবদ্ধতা দূরীকরণ থেকে মুক্ত করার জন্য খনন করা হচ্ছে তারাপাশা সুইচ খাল। প্রভাবশালী ঠিকাদার হওয়ার কারনে খাল খননের চরম অনিয়মের প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *