রাজশাহী সারাদেশে

বন্যায় চলনবিলে কাজ না থাকায় অনেক মানুষ ফেরিওয়ালা

সিরাজগঞ্জের চলনবিল অধূষিত তাড়াশ উপজেলায় বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়ায় শ্রম জীবি মানুষের কাজের অভাবে এখন “ হরেক রকম পণ্যের ফেরিওয়ালা”।ঐ অঞ্চলের ফেরিআলাদের সাথে কথা বলে জানা যায় , চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলায় পর পর তিন বারের বন্যায় রোপা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।আশ্বিন কার্র্ত্তিক মাসে এ অঞ্চলের শ্রমজীবি কৃষি শ্রমিকদের কোন কাজ না থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন অনেকে। জীবন-জীবিকার তাগিদে অনেকেই বেছে নিচ্ছে হরেক রকম পণ্যের ফেরিওয়ালার পেশা। চলনবিল এলাকার সিংড়া থেকে হরেক রকম পণ্যের ব্যবসা করতে তাড়াশে এসছেন মো. আইয়ুব আলী। তিনি বড় বড় শহর থেকে হরেক রকম মালামাল এনে পাইকারী বিক্রি করেন। নিজ এলাকা থেকে ৫ জন কে এনে ফেরিওয়ালা এনে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তাড়াশ অঞ্চলে কাজ না থাকায় প্রতিদিন নতুন নতুন ফেরিওয়ালা আগমন বাড়ছে বলে তিনি জানান। ফেরিওয়ালারা সকাল ৭টায় সকালের খাবার খেয়ে হরেক রকম পণ্যের পরশা নিয়ে বেড়িয়ে পরেন এলাকার বিভিন্ন গ্রামে। মেয়েদের দুল, গার্ডার, ক্লিপ, ব্যান্ড ,টিপ, ফিতা, আলতা,চুড়ি, স্নো,পাউডার,স্যাম্পু, শিশুদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা,মহিলাদের রান্না বান্নার ছোট ছোট পাতিল, চামচ, কড়াই, কলস, ডিস, বাটি সহ হরেক রকম পণ্য বিক্রি করে সন্ধ্যার পুর্বেই বাড়ীতে ফিরে আসেন। হরেক রকম পণ্য বিক্রি করা হয় নগদ টাকায়,হাসের সাদা পালক(ফৈরা) অথবা মহিলাদের ঝরে পরা চুলের বিনিময়ে।সাদা পালক ও চুল মহাজন কিনে নেয়। সন্ধ্যার সংগে সংগে তারা মহাজনের ঘরে ফিরে আসেন এবং রাতের খাবার শেষ করেন । তার পর পরের দিনের হরেক রকম পণ্য নিয়ে বিক্রির পসরা সুন্দর করে সাজিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।হরেক রকম ফেরিওয়ালা আফজাল হোসেন জানান, আমি আগে মানুষের বাড়ীতে ( শ্রমিক ) কামলার কাজ করতাম কিন্তু এ বছরে মাঠে এখন কাম নাই , বয়সের কারণে ভ্যান ও চালাবার পারি না, গায়ে আগের মত বল ( শক্তি) পাইনা। তাই হরেক রকম ফেরিওয়ালা হইচি। পয়লা পয়লা সরম লাগছিল । এখন ভালই লাগে খারাপ লাগেনা।সারা দিনে ৪/৫শ টেকা লাভ থাকে। মহাজন আইয়ুব আলী জানান, করোনার কারনে ৬মাস ব্যবসা বন্ধ থাকায় আমার ব্যবসা ও হরেক রকম পণ্যের ফেরিওয়ালাদের চরম ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন ব্যবসা পুনরায় চালু হয়েছে।কিন্তু মানুষের কাজ না থাকায় নতুন ফেরিওয়ালাদের চাপ বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *