ফিচার

রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের দরপত্র ছাড়াই কাগজ বিক্রির অভিযোগ

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে টেন্ডার ছাড়াই পরিত্যাক্ত কাগজ বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগরীর সুফিয়া এন্টারপ্রাইজ এর পার্টনার মিরাজ, শাফি, আব্দুল খালেক ও পাভেল বলেন, বিগত আট মাস পূর্বে পরিত্যাক্ত মার্কসিট, প্রশ্নপত্র ও খাতা বিক্রি করার লক্ষে বোর্ড কর্তৃপক্ষ একটি দরপত্র আহবান করে। এর আলোকে তারা দরপত্রে অংশ নেন এবং সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে কাজটি পান। সে সময়ে প্রশ্নপত্র গোডাউর থেকে উত্তোলন করলেও করোনার কারনে অন্যান্য কাগজ গোডাউন থেকে উত্তোলন করতে পারেন নি।

করোনা ভাইরাসের কারনে বাজারে এই ধরনের কাগজের দাম কমে যাওয়ায় তারা লোকসানে মুখে পড়েন। এই কারনে তারা মার্কসিট ও খাতা উত্তোলন না করে দাম কমানোর জন্য ভান্ডারের সচিব দুরুল এর নিকট অনুরোধ করেন। সেইসাথে তারা মার্কসিট সাড়ে ১৫টাকা থেকে ১৮ টাকা পর্যন্ত বলেন। কিন্তু বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে বিনা দরপত্রে কর্ণফুলি কোম্পানীর ভূয়া কাগজ দেখিয়ে একটি সিন্ডিকেট মাত্র সাড়ে ১৪ টাকা দরে কাগজ ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। আজ বৃহস্পতিবার দিনব্যাপি কাগজ বেড় করতে দেখা যায়।

দরপত্র এবং কাগজের পরিমান জানতে চাইলে মিরাজ বলেন, ঐ মার্কসিট ৩৬.৬৩ টাকা, প্রশ্নপত্র ১৮.৬৩টাকা এবং খাতা ২৮.৬৩ টাকা তারা দরপত্রের মাধ্যমে পান। এরমধ্যে মার্কসিট ১০০ টন ও খাতা প্রায় ৪০টন ছিলো। গড়ে সকল কাগজ সাড়ে ১৪ টাকা করে কর্ণফুলিকে দেয়ায় লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি হলো শিক্ষাবোর্ডের। এছাড়া টেন্ডার ছাড়া এভাবে কাগজ বিক্রি করার তীব্র প্রতিবাদ জানান তারা। টেন্ডার ছাড়া কাগজ বিক্রি বিষয়ে শিক্ষাবোর্ডের সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাগজ বিক্রি করার জন্য টেন্ডার করা হয়েছিলো। কিন্তু কাজ পাওয়া ব্যক্তিরা দীর্ঘ ৮মাস যাবৎ গোডাউন থেকে কাগজ উত্তোলন করেন নি। বার বার চিঠি দিলেও তারা কোন পদক্ষেপ নেননি। আর তারা নতুন করে কোন প্রকার দামও বলেন নি। যেহেতু করোনার কারনে বাজার কমে গেছে এবং সুফিয়া এন্টারপ্রাইজ কাজ পেয়েও কাগজ গোডাউন থেকে বের না করায় বাধ্য হয়ে কর্ণফুলি কোম্পানীকে দেয়া হয়েছে। আর একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে আরেকটি সরকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট কোন কিছু ক্রয় বিক্রয় করতে গেলে টেন্ডার না করলেও চলে। তবে সমস্ত নিয়ম মেনে কাগজ বিক্রি করা হয়েছে বলে জানান সচিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *